ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগে ভাড়া বাসায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মোসা. রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় স্বামী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে মিজানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদুল আলম জর্জ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যৌতুকের দাবিতে ২০১৯ সালে স্ত্রী রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে মিজানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামির বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি এবং যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছেন। এ কারণে তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।
রায়ে আরও বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে। আসামি চাইলে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিজান ভোলার চরফ্যাশন থানার পূর্ব মাদ্রাজ খাঁ বাড়ির মো. শামসুল ইসলাম ও রোসনা বেগমের ছেলে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মিজান।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার প্রায় ২০ দিন আগে মিজান তাঁর স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে তিনি স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। পরে রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠালেও তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহত রেহানার ভাই আব্বাস বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।