ঢাকার কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাইসুল ইসলাম ও তাঁর বাবার ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার মামলায় আসামি এহসানুর হক মাহিমকে (২২) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মাহিমকে আদালতে হাজির করে কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেন। ওই দিন আসামি মাহিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাদী পক্ষের আইনজীবী খালিদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আসামিকে আদালতে হাজির করার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলামের বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে আড্ডাবাজি ও মাদক সেবন করে আসছিলেন অভিযুক্ত মাহিম। এতে বাধা দিলে বিভিন্ন সময় শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন মাহিম।
বৃহস্পতিবার শিক্ষক রাইসুল ইসলামের বাবা নজরুল ইসলাম (৬৭) অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আড্ডা দিতে নিষেধ করলে মাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে কিলঘুষি ও লাথি মারেন। পরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা চোখের নিচে লেগে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় তাঁর পকেট থেকে প্রায় ৬ হাজার টাকা নিয়ে যান মাহিম। শিক্ষক রাইসুল ইসলামের ওপরও তাঁরা হামলা করেন।
তখন রাইসুলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে উত্তেজিত লোকজন মাহিমকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় রাইসুল ইসলাম কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।