মাত্র পাঁচ টাকা চেয়ে না পেয়ে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের এক বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে (কেয়ারটেকার) ছুরিকাঘাতে খুন করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১১-এর বিচারক মো. নুরুল ইসলাম এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. কাজল (৪৩)। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার জারিয়া গ্রামের মো. ফজল আলীর ছেলে। আদালত রায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে তাঁকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত রায় বলেছেন, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে দণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জুলহাস মিয়া (৫০) রাজধানীর ইন্ডিয়া রোডের একটা বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ২০১৮ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ইন্দিরা রোডের ‘রাজা এন্ড কোং’ নামের সিমেন্টের দোকানের সামনে গেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাজল তাঁর কাছে পাঁচ টাকা দাবি করেন। জুলহাস মিয়া টাকা দিতে দেরি করায় তাঁর পেটে কাজল ছুরিকাঘাত করেন। উপস্থিত লোকজন জুলহাসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে কাজলকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় নিহত জুলহাসের ছেলে সাইফুল ইসলাম শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে ২০১৮ সালের ২১ মার্চ তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আদালতকে তিনি জানান এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত।
তদন্তে জানা যায়, আসামি কাজল রাজধানীতে ভাসমান জীবনযাপন করতেন। মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা চেয়ে জীবনধারণ করতেন তিনি।
শেরেবাংলা নগর থানার তৎকালীন এসআই সোহানুর রহমান তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আসামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।