রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একজনকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মতিঝিল থানা-পুলিশ। সবুজবাগ ও দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে গত সোমবার দিবাগত রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আনোয়ার সরকার (৩০) ও মো. জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে বাবু (২৩)। তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ভুক্তভোগীর সই করা ৩টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী রাসেল আহমেদ একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। মতিঝিল মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এ কে খান বিল্ডিংয়ে তাঁর একটি আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ১০ মার্চ বিকেলে ৫-৬ জন দুষ্কৃতকারী ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাঁর অফিসে ঢুকে চাঁদা দাবি করে। রাসেল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে অপহরণ করে নন্দীপাড়ার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এ সময় তাঁর মুঠোফোন, ল্যাপটপ ও ক্রেডিট কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের মুখে তিনি স্বজনদের মাধ্যমে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা দেন। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ড ফেলে যায় অপহরণকারীরা।
ঘটনার পর আতঙ্কে ভুক্তভোগী চুপ থাকলেও সম্প্রতি অপহরণকারীরা হোয়াটসঅ্যাপে কল করে রাসেল আহমেদের কাছে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং স্ট্যাম্প ব্যবহার করে মামলা করার হুমকি দেয়। পরে ৪ মে রাসেল মতিঝিল থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবুজবাগ এলাকা থেকে আনোয়ার সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও মুক্তিপণের বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান চলছে।