রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়ার আট টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় প্রেমিকা তাসলিমা বেগম হাসনা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিতির খাস কামরায় তিনি জবানবন্দি দেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার জবানবন্দি দিয়েছেন তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগম। প্রবাসী মোকাররমের প্রেমিকা তাসলিমা বেগম হাসনার বান্ধবী হেলেনা বেগম।
তাসলিমা ও তাঁদের সহযোগী সন্দেহে গ্রেপ্তার আব্দুল মতিন দেওয়ানকে আদালতে হাজির করে মুগদা থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই থানার এসআই এনামুল হক মিঠু তাসলিমার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ ও আব্দুল মতিন দেওয়ানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মোকাররম মিয়া (৩৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকার বাসিন্দা। ১৭ মে (রোববার) রাজধানীর মুগদায় মান্ডা এলাকা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় বাসিন্দারা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ব্যক্তির মরদেহের ৭টি খণ্ড উদ্ধার করে। পরে আঙুলের ছাপ থেকে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর রোববার রাতে হেলেনা ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করে নিহত ব্যক্তির মাথার অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির চাচা রফিকুল ইসলাম সোমবার মুগদা থানায় হত্যা মামলা করেন।
আদালতের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তাসলিমা বেগম জবানবন্দিতে বলেছেন, তাসলিমাও প্রবাসীর স্ত্রী। প্রবাসী মোকাররম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাসলিমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে ১৩ মে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় আসেন। এসে সরাসরি তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার মুগদার মান্ডা এলাকার ভাড়া বাসায় ওঠেন। সেখানে হেলেনা তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। তাসলিমাও আগে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসে ওই বাড়িতে ছিলেন। মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে আর্থিক লেনদেন ছিল এবং তাঁদের কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মোকাররমের কাছে ছিল। আলোচনার একপর্যায়ে বিয়ের প্রসঙ্গে তাসলিমা রাজি না হওয়ায় মোকাররম তাঁর দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চান এবং ছবি-ভিডিও প্রকাশের হুমকি দেন।
জবানবন্দিতে তাসলিমা আরও বলেন, তাৎক্ষণিক হেলেনাসহ মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তাসলিমা। ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে বালিশচাপা ও হাতুড়ি-বঁটি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন হেলেনা ও তাসলিমা। এরপর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরা করেন। পরে মরদেহের খণ্ডাংশ পলিথিন ও বস্তায় ভরে বাসার আশপাশে ফেলে দেন তাঁরা।