বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিক্ষকদের সংগঠন ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’। সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।
আজ বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সচেতন শিক্ষক সমাজ সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মূল চালিকা শক্তি। দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হলেও অতীতে অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে এমন নিয়োগের কারণে শিক্ষার মানে ধস নেমেছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির ওপর ন্যস্ত। কিন্তু বর্তমানে এসব কমিটি গঠনের সুযোগ না দিয়ে এডহক কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, ফলে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটির অস্বচ্ছ, অদক্ষ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি ও এনটিআরসিএ জাল সনদ নিয়েও প্রতিষ্ঠান প্রধান হয়েছে। তবে পরিচালনা পর্ষদদের দক্ষ, স্বচ্ছ লোকদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়োগের কথা জানান তাঁরা।
ম্যানেজিং কমিটি গঠন ছাড়াই এনটিআরসিএ কর্তৃক প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধান নিয়োগের উদ্যোগকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১১৯ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালত প্রাথমিকভাবে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে চেম্বার জজ আদালত সেই আদেশ স্থগিত করেন। এরপর ১৮ এপ্রিল যথাযথ প্রস্তুতি ও নীতিমালা ছাড়া পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এনটিআরসিএর মূল দায়িত্ব শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদ প্রদান করা। এর বাইরে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার কথা নয়। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ জাল বা ভুয়া পাওয়া গেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা।
বক্তারা দাবি করেন, এ অবস্থায় এনটিআরসিএর মাধ্যমে গৃহীত প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে একদিকে যেমন দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন হবে, অন্যদিকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমাজের অন্যান্য নেতা।