সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের রসুলপুরের চতুর্থ শ্রেণির সেই শিক্ষার্থী মো. মুরাদ হোসেন সিফাতের পাশে দাঁড়িয়েছে র্যাব। আজ সোমবার র্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন ১০ বছরের সিফাত ও তার অসুস্থ মা শিল্পী খাতুনকে খবর দিয়ে সদর দপ্তরে আনেন। তাদের সংকটের কথা শোনেন। এরপর তার মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। নগদ দুই লাখ টাকা সহায়তা করেন। এসএসসি পর্যন্ত সিফাতের লেখাপড়ার খরচের দায়িত্ব নেন।
সিফাতকে নিয়ে ১৭ জুলাই আজকের পত্রিকা ‘চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাতের ছোট্ট কাঁধে সংসারের দায়িত্ব’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটি র্যাব সদর দপ্তরের নজরে আসে। এরপর র্যাব এই উদ্যোগ নিল।
সিফাত তার এলাকার একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। পাশাপাশি তার অসুস্থ মা ও পরিবারের খরচ জোগাতে চায়ের দোকানে দৈনিক ৫০ টাকায় কাজ নেয়। চায়ের দোকানে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে নাশতা পরিবেশন, চা বানানোসহ বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে ৫০ টাকা পারিশ্রমিক পেত সিফাত। যা দিয়ে সে সংসারের বাজার, মায়ের ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরত। পরবর্তী সময় অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা শেষে পড়াশোনার জন্য আবার স্কুলে যেত। এমন তথ্য পেয়ে র্যাব মহাপরিচালকের নির্দেশে সরেজমিন র্যাব সদস্যরা শিশুটির খোঁজ নেন।
সিফাতের মা মোছা. শিল্পী খাতুন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ এলাকার বাসিন্দা। সিফাতের বয়স যখন চার মাস তখন তাঁর স্বামী মাসুদ রানা মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে তিনি সংসারের ও ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাতেন। কিন্তু কিডনি ও থাইরয়েডজনিত বিভিন্ন জটিলতার কারণে তিনি সাড়ে তিন বছর ধরে কাজকর্ম ও চলাচলে প্রায় অক্ষম হয়ে বর্তমানে শয্যাশায়ী। অর্থের অভাবে শিল্পী খাতুনের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছিল না। সাংসারিক ব্যয় বহন করতে ১০ বছরের ছোট্ট শিশু সিফাত লেখাপড়ার পাশাপাশি চায়ের দোকানে কাজ শুরু করে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, র্যাব মহাপরিচালক সিফাত ও তার অসুস্থ মাকে র্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি তাদের নগদ দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। সিফাতের এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন এবং প্রতি মাসে তার পরিবারের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের আশ্বাস দেন। এ ছাড়া তিনি সিফাতের মা শিল্পী খাতুনের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। নিকটস্থ র্যাব ব্যাটালিয়নকে তাঁর সার্বিক দেখাশোনার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।