ঢাকার কেরানীগঞ্জে সহপাঠী এক ছেলের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে বেড়িয়ে বাসায় ফিরতে দেরি হয় এক কিশোরীর। বিষয়টি নিয়ে তার মা বকাঝকা করেন। এমনকি কিছু সময়ের জন্য তাকে ঘরে ঢুকতেও দেননি। বাড়ির সামনে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করার পর অভিমান করে সেখান থেকে চলে যায় নবম শ্রেণির ছাত্রী এই কিশোরী (১৪)।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে নবাবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ধলেশ্বরী নদীতে কচুরিপানার সঙ্গে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান স্বজনেরা। পরে মরদেহটি কিশোরীর বলে শনাক্ত করা হয়।
গত ৩০ মে কিশোরী ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। মেয়েটির বাড়ি কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নে। নিহত কিশোরী স্থানীয় কলাতিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৩০ মে সহপাঠী এক ছেলের সঙ্গে বাইরে ঘুরে দেরিতে বাড়ি ফেরে মেয়েটি। বিষয়টি নিয়ে তার মা বকাঝকা করেন। এমনকি কিছু সময়ের জন্য তাকে ঘরে ঢুকতেও দেননি। অভিমান করে বাড়ির সামনে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থানের পর সেখান থেকে চলে যায় মেয়েটি।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, রাগ করে হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গেছে। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও সে ফিরে না আসায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এদিকে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূর ধলেশ্বরী নদীর ভেন্ডিঘাট এলাকা থেকে তার বোরকার ওড়না ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তখন থেকেই পরিবারের সদস্যদের মনে আশঙ্কা জন্ম নেয়, হয়তো আর বেঁচে নেই মেয়েটি।
প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজ জানান, সকাল ১০টার দিকে নদীতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে লোকজন জড়ো হন। এ সময় এলাকায় মাইকিং করতে থাকা মেয়েটির স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তাঁরা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহত কিশোরীর স্বজন আব্দুল কাইয়ুম জানান, মেয়েটির এক সহপাঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে আপত্তি ছিল। ঘটনার দিন মায়ের বকাঝকার পর সে অভিমান করে চলে যায়। পরে আর ফিরে আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সামান্য একটি ঘটনার পরিণতি যে কত ভয়াবহ হতে পারে, মেয়েটির মৃত্যু যেন সেই বার্তাই দিয়ে গেল।
প্রতিবেশী আমেনা বলেন, আজকের এই ঘটনা পুরো এলাকাকে নাড়া দিয়েছে। একটি মেয়ে সামান্য অভিমানে নিজের জীবন শেষ করে দেবে, এটা কেউ ভাবতে পারেনি।
পাড়াগ্রাম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুদ্দীন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে নিখোঁজের ঘটনায় কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিলুল হক জানান, বিষয়টি নৌ পুলিশ তদন্ত করছে। পরিবারের লোকজন লাশ শনাক্ত করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।