• ৯ মাসে সৌদি আরব থেকে নির্যাতনের শিকার ৯৮০ নারী কর্মীর ফেরার দাবি
• ক্ষতিপূরণ ও শিশুদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় ‘প্রবাস’
বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি অধিকার সংস্থা ‘প্রবাস’। বিদেশে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর শাস্তির ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে সংগঠনটি। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
মানববন্ধনে ‘প্রবাস’-এর সদস্যসচিব ও অ্যাকটিভিস্ট আনন্দ কুটুম দাবি করেন, সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে গত নয় মাসে ৯৮০ জন নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন। তাঁদের কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ফিরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব নারী কর্মীর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা ও তাঁদের সন্তানদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান আনন্দ কুটুম। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনটির আহ্বায়ক, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা মনন বলেন, বিদেশে বিচারাধীন বাংলাদেশি শ্রমিকেরা যেন ন্যায়বিচার পান, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
প্রবাসের সমন্বয়ক ও চিকিৎসক তৃণা ইসলাম বলেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় দূতাবাসগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংগঠনটির গণমাধ্যম সমন্বয়ক ও সাংবাদিক হাসনাত কাদীর বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিপদে পড়লে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর শাস্তির ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তাঁরা।
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা, আইনি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কাজের লক্ষ্যে গঠিত ‘প্রবাস’-এর এ কর্মসূচির সহ-আয়োজক ছিল দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক গণতন্ত্র ও জবাবদিহিবিষয়ক নেটওয়ার্ক সাউথ এশিয়ান অ্যাকাউন্টেবিলিটি নেটওয়ার্ক ফর ডেমোক্রেসি (স্যান্ড)। গবেষণা সহযোগী হিসেবে ছিল চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য স্কলারো’।