বিদেশি মডেলের অন্ধ অনুকরণ বন্ধ করে দেশের সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে জনবান্ধব নগরায়ণ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটির মতে, নগর উন্নয়নে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি মানুষের সামাজিক ও মানবিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ শুক্রবার ‘বাংলাদেশের নগরায়ণের উন্নয়ন দর্শন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। বিশ্ব শহর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় পরিকল্পনাবিদ ও নগর বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, পুকুর, উঠান, পাড়া-মহল্লা ও খেলার মাঠ একসময় আমাদের সামাজিক যোগাযোগের মূল কেন্দ্র ছিল। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দখলদারত্বের কারণে তা আজ সংকুচিত। উন্নয়ন মানে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের জন্য সুস্থ ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করা। আইপিডির পক্ষ থেকে তিনি ‘পুকুর-উঠান-পাড়াভিত্তিক নগরায়ণ’ ধারণাকে আধুনিক নগর পরিকল্পনায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিআইপির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, নগর পরিকল্পনা এখন আর মানবিক দর্শনে নয় বরং ব্যবসায়িক ও গোষ্ঠী স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে আইপিডির উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণে অর্থনৈতিক করিডোরভিত্তিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাম্মদ উল্লাহ নগর পরিকল্পনায় পুঁজিনির্ভরতার সমালোচনা করে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে নগর সংকট নিরসনে আইপিডির পক্ষ থেকে ৬টি প্রধান সুপারিশ পেশ করা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভূপ্রকৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে জাতীয় নগরায়ণ নীতি প্রণয়ন; পুকুর, খাল ও জলাভূমির সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা; প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরাপদ খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে শিশু-কিশোরবান্ধব নগর গড়ে তোলা; নতুন ও পুরোনো সব আবাসন এলাকায় পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের স্পেস তৈরি করা; শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য দূর করে সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা; এবং স্থানীয় সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ সজীব, আইপিডির রিসার্চ ফেলো কে এম আসিফ ইকবাল আকাশ প্রমুখ।