মহাসড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বাজার। পাশেই পড়ে আছে স্ত্রীর নিথর দেহ। স্ত্রীর পাশেই সড়ক বিভাজকের ওপর নির্বাক হয়ে বসে আছেন স্বামী হায়দার আলী। চেয়ে আছেন স্ত্রীর দিকে। কারও কোনো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না। স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে বাসচাপায় মারা যান তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম (৫৫)।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের গেন্ডা এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। স্বামী হায়দার আলীর সঙ্গে সাভারের কাতলাপুরের পালপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন আসমা বেগম।
হায়দার আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ দিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে মানিকগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। আজ বেলা আড়াইটার দিকে সেখান থেকে বাসে এসে সাভারে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে নামেন তাঁরা। সঙ্গে ছিল ১২ বছরের নাতি সিয়াম। পরে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী বাস স্ত্রীকে চাপা দেয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হায়দার আলী বলেন, ‘বাস থেকে নেমে স্ত্রী রাস্তা পারাপারের সময় হঠাৎ একটি শব্দ পাই। সামনে গিয়ে দেখি রাস্তার মাঝখানে আমার স্ত্রী পড়ে আছে। আর কিছু জানি না।’
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, তাঁরা মানিকগঞ্জ থেকে সেলফি পরিবহনের বাসে করে সাভারে নামেন। পরে তাঁরা রাস্তা পারাপারের সময় পেছনে থাকা অপর আরেকটি যাত্রীবাহী বাস স্ত্রী আসমা বেগমকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক বাসটি আটকের চেষ্টা চলছে।