দেশ ত্যাগের আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রফিকুল ইসলাম নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। রফিকুল গতকাল সোমবার শবে মেরাজের রাতে কুমিল্লায় সোলেয়মান (২৮) নামের এক মুসল্লিকে মসজিদে ঢুকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর তাঁকে প্রধান আসামি করে বুড়িচং থানায় মামলা করা হয়।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেক ইন কাউন্টার থেকে আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর এপিবিএন।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কুমিল্লার বুড়িচংয়ে শবে মেরাজের রাতে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় সোলেয়মান (২৮) নামের এক যুবককে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম। তিনি কুয়েতে পালানোর চেষ্টাকালে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ।’
জিয়াউল হক জানান, গতকাল সোমবার শবে মেরাজের রাতে সোলেমান (২৮) নামে এক যুবককে বুড়িচং উপজেলার নাজিরাবাজার বাইতুর রহমান জামে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় একাধিক ব্যক্তি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় হত্যার উদ্দেশে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কুমিল্লার কুচাইতুলি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় মো. রফিক এবং মো. সুমনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পরই প্রধান আসামি প্রবাসী রফিক (৩৫) কুয়েতে পালানোর চেষ্টায় ঢাকায় আসেন। তিনি বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে কুয়েতে ফেরত যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
জিয়াউল হক বলেন, ‘আগে থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর এপিবিএন ও পুলিশের গোয়েন্দা দল বাংলাদেশ বিমানের চেক কাউন্টার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধান অভিযুক্ত রফিকের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এয়ারপোর্ট পুলিশ। এরপর তাঁকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের জিম্মায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার দুই নম্বর আসামি মো. সুমন বর্তমানে দেশে অবস্থান করা একজন কুয়েত প্রবাসী। তাঁকেও গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’