কুমিল্লার হোমনা খাদ্যগুদাম থেকে নেওয়া ৫১৮ বস্তা সরকারি চাল দাউদকান্দির গৌরীপুরে জব্দ করেছে পুলিশ। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের অনুকূলে বরাদ্দ করা এসব চাল কিনেছিলেন হোমনা পৌর যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন। পরে তিনি চালগুলো তিতাস উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের কাছে বিক্রি করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় সরকারি চাল পাচার হচ্ছে—এমন সন্দেহে দাউদকান্দির গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা চালবোঝাই গাড়িটি জব্দ করেন। এরপর চালের উৎস ও কেনাবেচা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে হোমনা উপজেলার ৫০টি পূজামণ্ডপের প্রতিটির অনুকূলে ৬০০ কেজি করে মোট ৩০ টন চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা বরাদ্দের চাল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি টন ১৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন।
হোমনা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন জানান, হোমনা পৌর যুবদলের সভাপতি আলমগীর হোসেন ওই চালের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) কিনে অন্যত্র বিক্রি করেন। চালগুলো এত দিন খাদ্যগুদামেই সংরক্ষিত ছিল। জব্দ হওয়া ৫১৮ বস্তা চাল দুর্গাপূজার সেই বরাদ্দের।
অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বলেন, ‘পূজামণ্ডপের বরাদ্দের চাল সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কিনে তিতাস উপজেলার সাইফুল মেম্বারের কাছে বিক্রি করেছিলাম। ওই ডিওর বিপরীতে বরাদ্দ করা চাল পরিবহনের সময় পুলিশ সন্দেহবশত গাড়িটি আটক করে।’
এদিকে সরকারি চাল জব্দের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আটক চালের প্রকৃত উৎস, এভাবে চাল কেনাবেচা ও পরিবহনের আইনি বৈধতা এবং এর সঙ্গে কোনো অনিয়ম জড়িত কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটাবেন।