কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের হাতে একই মাদ্রাসার মাধ্যমিক সেকশনের বাংলা শিক্ষক খাইরুল ইসলাম শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তির দাবি করে শনিবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম বাজার এবং মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকেরা। এই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নূরুল আমিন এই কমিটি গঠন করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেনকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমবায় অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মো. মোখলেছুর রহমান।
আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ওই ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে এই কমিটি গঠন করা হলেও শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করতে পারেনি। রোববার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে কমিটির প্রধান এ কে এম মীর হোসেন জানিয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসা-সংলগ্ন সড়কে মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক মো. ওমর ফারুক রিয়াদ, খিরনশাল ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের পক্ষে বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল বারিক, আব্দুল মতিন, মো. সুজন মিয়া।
মানববন্ধনে মাদ্রাসার বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার মোহনা, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. হুমায়রা আফরিন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের কারণে ওই মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক শান্তিতে চাকরি করার সুযোগ পান না।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মো. ফজলুর রহমান, মো. নাসির উদ্দিন, মো. ওসমান গণি রাকিব, আব্দুল মমিন, সালাউদ্দিন, শাহিন কাদেরসহ মাদ্রাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সচতেন নাগরিকেরা।