কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রায় ২০ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোরশেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মাশিকাড়া বাজারে তাঁর নিজস্ব আসবাবপত্রের দোকান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোরশেদের বর্তমান বয়স ৩৯ বছর। তিনি উপজেলার কাশারীখোলা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, ২০০৬ সালের ১ মে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার সাতোরা গ্রামে রিয়াদ (১৭) নামের এক কিশোর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ছিলেন মোরশেদ। ওই মামলায় ২০২৩ সালে আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
এ ব্যাপারে মোরশেদের স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামী মামলার আসামি ছিলেন তা তিনি এবং তাঁর পরিবারের কেউ জানতেন না।
মোরশেদের বড় ভাই খোরশেদ আলম বলেন, জীবিকার তাগিদে তাঁরা একসময় সাতোরা গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখানে তাঁদের মামার বাড়ি ছিল। ওই সময় রিয়াদ নামে এক কিশোরের মরদেহ খুঁজে পায় পুলিশ। সেখানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর তাঁরা গ্রামে ফিরে আসেন। তাঁর দাবি, মোরশেদ যে হত্যা মামলার আসামি কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত—এ তথ্য তাঁদের জানা ছিল না।
খোরশেদ আলম আরও বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে মোরশেদকে দোকান থেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে থানায় গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তিন বছর আগে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বুধবার রাত ১২টায় বলেন, ‘২০২৩ সালে মোরশেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার একটি কাগজ পাই। সে একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশসহ ৩০ হাজার টাকা জরিমানার রায় নিয়ে পলাতক রয়েছে। আজ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে আসি। তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় হয়েছে, তবে সে জানে না। হঠাৎ ফাঁসির সংবাদ শুনে হার্ট অ্যাটাক করতে পারে ভেবে আমরাও তাকে ফাঁসির কথা জানাইনি।’
ওই হত্যা মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করেও ডকেটে কোনো তথ্য পাইনি। আগামীকাল আদালতের নথিতে বিস্তারিত জানা যাবে।’