পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পশু বাজারে আনার অপেক্ষায় খামারিরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চকরিয়ায় ১ হাজার ৭৫৫টি স্থানীয় খামারে প্রস্তুত করা পশু এলাকার চাহিদা পূরণে সক্ষম।
খামারিদের চাওয়া, দেশের বাইরে থেকে যেন কোরবানির পশু আমদানি করা না হয়। এমনটি হলে কোরবানির পশুর দাম নেমে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন হাজারো খামারি। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে চোরাই পথে আসা গরু-মহিষ হাটে বিক্রি হয়। এখন মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাজুড়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ও সংঘাতের কারণে পশু চোরাকারবারি বন্ধ আছে। তবু স্থানীয় খামারিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় গরুর ১ হাজার ১০০টি, মহিষ ১২০, ছাগল ৪৫০ ও ভেড়ার ৮৫টি খামার রয়েছে। এসব খামারে ৪৩ হাজার ৫৭৬টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৮১০টি গরু, ১ হাজার ৭৪৫টি মহিষ এবং ১৬ হাজার ১১টি ছাগল ও ভেড়া। এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪২ হাজার। স্থানীয়ভাবে পালন করা পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব।
চকরিয়া পৌরসভার হাশেম মাস্টারপাড়ার শামসুল আলম বলেন, ‘কোরবানির বাজারে তোলার জন্য চারটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। প্রতিটির ওজন পাঁচ থেকে সাত মণ হবে। ষাঁড়গুলোকে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুসি ও খড় খাওয়ানো হয়েছে। কোরবানির হাট বসতে শুরু করলেই এগুলোকে হাটে তুলব।’
ইলিশিয়ার নুরুল আমিন বলেন, ‘কোরবানি উপলক্ষে এ বছর ছয়টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। খামারে আরও ১২টি গরু আছে। দিন-রাত তিনজন শ্রমিক খামারে কাজ করেন। গোখাদ্যের দাম একটু বেড়ে যাওয়ায় এ বছর পশু পালনের খরচ বেড়েছে। তাই পশুর দাম নিয়ে চিন্তিত।’
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন বলেন, চকরিয়া উপজেলায় গরু-মহিষের বিশাল চারণভূমি রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিকভাবে পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ হয়। তাই দক্ষিণ চট্টগ্রামে চকরিয়ার পশুর আলাদা কদর রয়েছে। এ বছর এখানে ৪৩ হাজার ৫৭৬টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
আরিফ উদ্দিন আরও বলেন, সারা বছর প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা খামারিদের খোঁজখবর রাখেন। কোনো পশু অসুস্থ হলে চিকিৎসা দেন। বর্তমানে গোখাদ্যের দাম বাড়ার কারণে খামারিরা একটু দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।