কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। আজ সোমবার দুপুরে উখিয়ার ইনানীতে নৌবাহিনীর সেতুর কাছে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা একটি রিসোর্ট ভবন ভেঙে অভিযানের শুরু হয়।
উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে গত ১৭ অক্টোবর অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর নয় দিন পর এ অভিযান শুরু হলো।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে যৌথভাবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে দুই শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। তারকামানের কয়েকটি হোটেল ছাড়া অধিকাংশ স্থাপনার বৈধ অনুমোদন নেই।
নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান কউক চেয়ারম্যান।
অভিযানের প্রথম দিনে চারতলা ভবনটির নিচে ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। পরে ভবনের কাচ ও মূল কাঠামোর পিলার ভাঙার কাজ শুরু হয়।
কউকের সচিব সানজিদা বেগম বলেন, ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
রিসোর্টের মালিক শহিদুল হকের দাবি, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। সম্প্রতি প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি চারতলায় উন্নীত করা হয়।
শহিদুল হক বলেন, ‘নোটিশের জবাবও দেওয়া হয়েছে এবং নির্মাণের পক্ষে কাগজপত্র রয়েছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ পরিচালনা করায় সম্প্রতি ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব না দেওয়ায় ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানা এবং দুটি রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।