চুয়াডাঙ্গা: খুলনা বিভাগের জেলা চুয়াডাঙ্গায় করোনার প্রকোপ বাড়ছে। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২। এর মধ্যে জেলায় অবস্থানকালে মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের ও জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৩ জন। জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬৬। মোট সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৭৩ জন।
করোনা সংক্রমণ রোধে জেলায় ৭২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ চলছে। গতকাল সোমবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছে প্রশাসন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, জীবননগর, দামুড়হুদা ও দর্শনায় প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করার কারণে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার জেলা জুড়ে ৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪৯টি মামলায় ৫৪ জনকে ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আছে প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার বাহিনী কাজ করছে। আমরা চাই, কঠোরভাবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করা হোক। প্রশাসন থেকে অসহায় ও কাজহীন ব্যক্তিদের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। শর্ত একটাই—লকডাউন মানতে হবে।
পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত চুয়াডাঙ্গার ৩০৭টি নমুনার ফলাফল গতকাল সোমবার প্রকাশ করেছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ৯৯ জন নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এই ৯৯ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৩৮, আলমডাঙ্গার ১৩, দামুড়হুদার ১৩ ও জীবননগর উপজেলার ৩৫ জন রয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩২ দশিমক ২৪ শতাংশ। করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলায় নতুন করে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৪১টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১২ হাজার ৭৪৯টি, শনাক্ত ৩ হাজার ২৬৬ জন। জেলায় বর্তমানে ৯৯২ জন আইসোলেশনে রয়েছেন। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছেন ৯৩১ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৬১ জন।
এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১০২ জনের। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩২, আলমডাঙ্গায় ২১, দামুড়হুদায় ২৬ ও জীবননগরে ১০ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।