লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্য জোট গাড়ি মার্চ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘লংমার্চের ইতিহাস হচ্ছে পায়ে হেঁটে কর্মসূচি পালন করা। কিন্তু ১১ দলীয় ঐক্য জোট যে কর্মসূচি পালন করছে, সেটিকে গাড়ি মার্চ বলা যায়।’
আজ শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘এই গাড়ি মার্চের মাধ্যমেই তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে, মানুষ তা শুনবে। এ নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। এটি তাদের বিষয়। আমরা চাই, দেশে যাদের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে, তারা রাজনীতি করুক।’
চুয়াডাঙ্গার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করার অর্থ হলো উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে দেওয়া। এখানকার গণমাধ্যমকর্মীরাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালো জানেন। আমি এখানে মাত্র একদিন এসেছি। আমাকে যেটা দেখানো হবে, আমি সেটাই বুঝব। তবে এর বাইরেও যদি কিছু থাকে, তাহলে আমাকে জানালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’
মতবিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, ‘জেলায় মাদক, অনলাইন জুয়া, চোরাচালান ও বাল্যবিবাহসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া এখানে আত্মহত্যার প্রবণতাও বেশি। বিশেষ করে আবহাওয়া ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় এর জন্য দায়ী। এসব সমস্যা মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গাকে নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গা সবার, চুয়াডাঙ্গা এখন আমারও।’
নজরুলচর্চা ও তৃণমূল পর্যায় থেকে শিল্পী খুঁজে আনার বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূল থেকে শিল্পী খুঁজে আনার কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি এলাকা, স্কুল, মাদ্রাসা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় নাটক, অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি, গান, নাচ ও অঙ্কনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিভা অন্বেষণ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। চুয়াডাঙ্গাতেও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।’
মতবিনিময় সভায় জেলার মাদক, চোরাচালান, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যার প্রবণতা প্রতিরোধের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামানসহ অন্যরা।
পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী।