দেশত্যাগের সময় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর ভাই মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরীকে। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁর (আমজাদ হোসেন চৌধুরী) বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আমজাদকে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্র জানায়, আমজাদ হোসেন চৌধুরী একটি ফ্লাইটে দুবাই যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৬ সালে এবি ব্যাংকের ৩২৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে আমজাদ চৌধুরীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। আদালত তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়।
গত ৬ জানুয়ারি বিএনপির নেতা আসলাম চৌধুরী, তাঁর ভাই আমজাদ চৌধুরীসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামিদের মধ্যে আসলামের স্ত্রী জামিলা নাজনীন মাওলা জামিনে ছিলেন। আর আসলামের দুই ভাই জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও আমজাদ হোসেন চৌধুরী পলাতক ছিলেন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আসলাম চৌধুরীর পারিবারিক মালিকানাধীন রাইজিং স্টিল লিমিটেড পুরোনো জাহাজ ক্রয়ের জন্য ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনটি ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে এবি ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৩২৫ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৫ টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেননি। বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তির দুটি দলিল ও তিনটি চেক জামানত হিসেবে দেয়। এসবের জামিনদার ছিলেন আসলাম চৌধুরী নিজে।
পরে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই দুদকের উপসহকারী পরিচালক মানিক লাল দাশ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট তদন্ত শেষে আদালতে এই মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে দুদক।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ওই বছরের ২৬ মে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রব্বানী।