প্রায় দুই বছর টোলমুক্ত থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালীর সীমান্তে সাঙ্গু নদীর ওপর নির্মিত তৈলারদ্বীপ সেতুর জন্য আবারও ইজারা কোটেশন আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইজারা কোটেশনের বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর যাত্রী-বিভিন্ন যানবাহনের চালকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় একটি পত্রিকায় সওজ চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে এই সেতু ব্যবহারকারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
জানা গেছে, ২০০১ সালের ১৭ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫১২ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ সেতুর যান চলাচলের উদ্বোধন করেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ তখন থেকে এই সেতুতে ইজারার মাধ্যমে টোল আদায় করে আসছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটার না হওয়ায় গত পাঁচ বছর ধরে আনোয়ারা ও বাঁশখালীর জনগণ এই টোল আদায়ের বিরোধিতা করে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা টোল মওকুফের দাবিতে মানববন্ধনসহ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিও পেশ করেন। ২০১৭ সালে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরী এই সেতুর টোল মওকুফের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত টোল আদায় স্থগিত করলেও সেতুটি ইজারা দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) পতনের থেকে এই সেতু টোলমুক্ত হয়। কিন্তু আজ মঙ্গলবার হঠাৎ এ সেতুর ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ওই এলাকার বাসিন্দাসহ সাধারণ যাত্রী-চালকেরা।
আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কের বাসচালক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হওয়ার পর থেকেই চলছে এই টোল আদায়ের নামে গলাকাটার আচরণ। তৈলারদ্বীপ সৈতুতে টোল আদায় কাণ্ড যেন আর চালু না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন, সরওয়ার জামাল নিজাম এমপি ও বিএনপি সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে।’
রিফাতুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ছোট ছোট যানবাহনকেও সেতুতে টোল দিতে হয়েছে। এ নিয়ে জনগণের ভোগান্তির শেষ ছিল না। দুই বছর পর আবারও সে ভোগান্তি বাড়ানো একেবারেই উচিত নয়। এই টোল আদায় থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়ার দাবি সবার।
বাস মালিক সমিতি, যানবাহনের মালিক ও স্থানীয় লোকজনের দাবি, আনোয়ারা-বাঁশখালী সীমান্তের তৈলারদ্বীপ সেতুটি নির্মাণে কোনো বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের প্রয়োজন হয়নি। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এ সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। তাই এ সেতুতে কোনো টোল আরোপের সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে তৈলারদ্বীপ সেতুর দৈর্ঘ্যের সমপরিমাণ অন্যান্য সেতু যদি ইজারা না হয়, তাহলে তৈলারদ্বীপ সেতু কেন ইজারা দেবে? আমি টোল আদায় বাতিলের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত টোল আদায় স্থগিত করেছিলেন। গত দুই বছর টোলমুক্তও ছিল এই সেতু। কিন্তু হঠাৎ করে কেন ইজারা বিজ্ঞপ্তি দিলেন জানি না। আমাদের দাবি, মাত্র ৫১২ মিটারের এই সেতু টোলমুক্ত করতে হবে।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পত্রিকায় তৈলারদ্বীপ সেতুর ইজারা কোটেশনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। সরকার টোলমুক্ত করলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’