চট্টগ্রামে আদালতের তাগাদা দেওয়ার দুই সপ্তাহ পর রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে ৯ বছর আগে ওই হামলার জন্য রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৬ নেতা-কর্মীকে দায়ী করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের প্রথম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরীন হীমার আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেন রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা।
এর আগে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হওয়ায় ১১ জানুয়ারি একই আদালত মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মামলার বাদী মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘দ্রুত বিচার আইনে আমার করা মামলাটিতে পুলিশ ২৬ আসামির সবাইকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।’ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে পরবর্তী তারিখে শুনানি করবেন বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৮ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী বাজার এলাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
ওই হামলায় মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ ছয় নেতা আহত হয়েছিলেন। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। এ সময় নির্ধারিত ত্রাণ কর্মসূচি বাতিল করে চট্টগ্রাম শহরে ফিরে এসে প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন নেতারা। সেদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা ও রাঙ্গুনিয়ার তৎকালীন সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদকে দায়ী করেন।
তখন হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, বিএনপি নেতাদের গাড়িবহরের ধাক্কায় দুজন আহত হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা করেছে। ওই ঘটনার দুই দিন পর চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এনামুল হক বাদী হয়ে ২৬ জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে পরে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ২ অক্টোবর চট্টগ্রাম দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জিন্নাত আরা বেগমের আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে বাদীপক্ষ। ওই মামলার আবেদন শুনানি শেষে পরে আদালত মামলাটির পুনঃ তদন্তের আদেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ পুনঃ তদন্ত করে এই রিপোর্ট দাখিল করে। পুলিশের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামসুজ্জোহা সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল গুপ্ত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মো. সরওয়ার, নাজিমুদ্দিন, রাসেল, মহসীন, জাহেদ, আলমগীর, নঈমুল ইসলাম, পাভেল বড়ুয়া, জাহেদ, ইকবাল হোসেন, নাহিম, এনামুল হক, রাসেল, সাইফুল, মাহাবুব, আনোয়ার, নেসার উল্লাহ, বেলাল, মুজাহিদ, বাপ্পা ও হারুন।