চট্টগ্রামে গত ৫ জুলাই ভোর ৬টা থেকে আজ ১২ জুলাই বেলা ৩টা পর্যন্ত সাত দিনে মোট ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ডুবেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, বেড়েছে ভোগান্তি।
৪ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ৫ ও ৬ জুলাইয়ের ভারী ও অতি ভারী বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানিতে নগরের অনেক এলাকা ডুবে যায়। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটু ও বুকসমান পানি জমে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে যায়। এরপর গত পরশু থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে শুরু করে। নগরের দু-একটি এলাকা বাদে অনেক স্থান থেকে পানি নেমে যায়।
গতকাল শনিবার বৃষ্টি তুলনামূলক কম হলেও রাত থেকে আবার মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। আজ রোববার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।
এই অবস্থায় দুপুরে নগরের কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, শমসেরপাড়া ও তার আশপাশ, হালিশহর কে-ব্লক ও এল-ব্লক, আগ্রাবাদ মুহুরীপাড়া, শান্তিবাগসহ আরও কিছু এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে গেছে।
জলাবদ্ধতায় কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। জলমগ্ন এলাকাগুলোয় যানবাহনের সংকটও দেখা দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেলা ৩টার দিকে জলমগ্ন বেশির ভাগ এলাকায় পানি কমতে শুরু করে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল ভূঁইয়া আজ বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামেও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।