চট্টগ্রামে চুরির অভিযোগে পুলিশের উপস্থিতিতে দুই শিশুকে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে ডিআইজি বাংলোর তিন পুলিশ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নগরীর খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকায় সংঘটিত ঘটনার ভিডিও গতকাল শনিবার রাত থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ভিত্তিতে আজ রোববার মো. মেহেদী, মো. মাজহার ও মো. এহসান নামের তিন কনস্টেবলকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন সিএমপি কমিশনার। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোখলেছুর রহমান।
উপ-কমিশনার মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা যে তথ্য পেয়েছি, লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে তিন শিশুকে ধাওয়া দিয়ে পুলিশ সদস্যরা জিলাপির পাহাড়ে নিয়ে যান। সেখানে লোহার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাদের মারধর করা হয়। একজনের মাথার চুল সামান্য কেটে দেওয়া হয়। পরে তারাই আবার শিশু দুটিকে অভিভাবকের কাছে দিয়ে দেয়। পুলিশ সদস্যদের কাছে অভিযোগ ছিল যে, এই শিশুরা এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। যা’ই হোক, তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা কিংবা ঊর্ধ্বতন কাউকে অবহিত করেনি। এ জন্য সিএমপি কমিশনার স্যারের নির্দেশে তাদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর খুলশী থানা এলাকার লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ব্রিজের নিচ থেকে দুই শিশুকে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় আটক করেন ডিআইজি বাংলোর পুলিশ। পরে চুরির অপবাদ দিয়ে দুই কিশোরকে রশি দিয়ে বেঁধে লালখান বাজারে ডিআইজি বাংলো এলাকায় নিয়ে যান। লালখান বাজারের ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির দারোয়ান তাজু শিশুদের ধরতে ডিআইজি বাংলোর ৩ কনস্টেবল পুলিশকে বলা হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক তাঁদের ধরে আনেন। পরে নির্যাতনের দেড় ঘণ্টা পর তাদের নিজ নিজ বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
নির্যাতিত এক শিশুর মা গুলশান বেগম বলেন, ‘পুলিশ আমার ছেলের মাথা অর্ধেক ন্যাড়া করে দিয়েছে এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। ওর গায়ে আঘাতের অনেকগুলো দাগ আছে। দুপুর ১টা ৩ মিনিটের সময় আমার ছেলে সিয়ামকে আমার বাসায় দিয়ে গেছে পুলিশ।’