ঘড়ির কাঁটায় রাত ৯টা বাজতেই ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান চালুর তোড়জোড় শুরু হয় সাদেকের। সকল ব্যবসায়ীরা যখন সারা দিনের কর্মক্লান্তির অবসান ঘটিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ির পানে ছোটেন, ঠিক সেই সময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের কলেজ রোডের মুখে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান খুলে বসেন তিনি। তাঁর দোকান বসার সঙ্গে সঙ্গেই চা খেতে সেখানে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। উপস্থিত সকলের চাহিদা অনুসারে তাঁদের হাতে হাসি মুখে তুলে দেন চা।
ভ্রাম্যমাণ এই দোকানির অধিকাংশ ক্রেতাই শুধু চা খেয়েই তৃপ্ত হন। আবার অনেকে চায়ের সঙ্গে জমিয়ে বিস্কুট, কেক কিংবা ঝালমুড়ি মুখে দিয়ে খিদে মেটান। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মন্দির সড়কে (কলেজ রোড) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে প্রতি রাতেই চলছে ‘সাদেক নাইট স্টোর’ নামে সাদেকের ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান। এই দোকান করেই সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছেন সাদেক (৫৭)। নিজ বাড়িতে করেছেন পাকা দালান ঘর। স্ত্রী সুফিয়া বেগম, ছেলে মারুফ (২০) ও শারুফের (১৩) যাবতীয় ভরণ-পোষণ ও ছেলেদের পড়াশোনা সকল খরচই চালাচ্ছেন মধ্যরাতের এ চা দোকানের মাধ্যমে।
সাদেক আজকের পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সীতাকুণ্ড পৌর সদরের চৌধুরীপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়ি। তাঁর বাবা নুরুল আলমের উৎসাহে ১৯৮১ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। কিন্তু পরীক্ষার পর পরেই তাঁর বাবার মৃত্যুতে থেমে যায় লেখাপড়া।