দেশে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘অগ্রাধিকার’ ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার (৯ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানও একই কথা বলেন।
কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা পাঁচটি এলএনজি ও দুটি এলপিজিবাহী বড় জাহাজসহ বর্তমানে মোট ১৪টি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও বাংকারিং কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দরে আগত জাহাজগুলোর অধিকাংশ বাংকারিং ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়া হওয়ায় আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে তুলনামূলকভাবে কম।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথাও বলেন তিনি।
বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজ নিয়মিত বন্দরে আসছে। কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আগত পাঁচটি এলএনজি ও দুটি এলপিজিবাহী বড় জাহাজসহ বর্তমানে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজও নিয়মিত বন্দরে আসছে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য নিয়ে এসব জাহাজের ধারাবাহিক আগমন ও দ্রুত বার্থিং ব্যবস্থার কারণে বন্দরে কোনো ধরনের জট নেই এবং জ্বালানি সরবরাহ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয় বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে।
জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব ধরনের চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ করা হবে। পাশাপাশি জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
তথ্যমতে, বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম ও লজিস্টিক সাপোর্ট আগের মতোই নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা এবং জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বদা সজাগ রয়েছে।