কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মা-ছেলে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের মা ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা।
ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মায়ের প্ররোচনায় ১৫ বছরের কিশোর গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার পৌর এলাকার পাঁচরা গ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আয়শা আক্তার নিপা ও তাঁর ছেলে আলী হাসান মুজাহিদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা গতকাল দুপুরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। এর আগে হত্যার ঘটনায় সন্দেহজনক হিসেবে ফাতেমা বেগমের বড় ছেলে মঈনুল হাসান শুভ (২২) ও পরে মাদ্রাসা থেকে তার ১৫ বছরের কিশোর ছেলেকে আটক করা হয়।
ওসি আরও জানান, আটক কিশোর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে নিপা ও মুজাহিদকে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়।
স্বীকারোক্তিতে কিশোর পুলিশের কাছে বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাদের সঙ্গে তাদের ঝগড়া হতো। বিষয়গুলো নিয়ে মা ফাতেমা বেগম তার কাছে কান্নাকাটি করত। এতে করে তার ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে মঙ্গলবার রাতে ঘুমন্ত চাচি ও চাচাতো ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করে।
ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মায়ের প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে ধারণা থেকে রাতে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের মেষতলি গ্রামে বাবার বাড়ির থেকে ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে আজ সকাল ১০টায় জানাজা শেষে মা ও ছেলে পাঁচরা গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে গতকাল রাতে দুবাই থেকে দেশে আসেন গৃহবধূর স্বামী আনোয়ার হোসেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত আছে তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’