বেশ কিছুদিন ধরেই গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলছিলেন স্কুল শিক্ষক বিধান মল্লিক (৪৫)। অবশেষে আজ মঙ্গলবার খুব সকালে হাসিমাখা মুখে বৃদ্ধ বাবা দুর্গাপদ মল্লিককে (৭৫) মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কথা ছিল-আনোয়ারা উপজেলায় গ্রামের বাড়ি থেকে বিকেলে দুজনে একসঙ্গে আবার পাথরঘাটায় শহরের বাসায় ফিরবেন। কিন্তু তাঁদের আর ফেরা হলো না। গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথেই নগরের কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর প্রথম সিঁড়ি এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁদের দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত বিধান মল্লিক কর্ণফুলী থানাধীন দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবা দুর্গাপদ মল্লিক আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামের বাসিন্দা।
কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আবু সাঈদ বাকের জানান, সকাল ৮টার দিকে মইজ্জ্যারটেকমুখী একটি পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রথম সিঁড়ি এলাকায় পেছন থেকে আসা পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অপরজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী জামাল উদ্দীন জানান,`একটি হায়েস গাড়ির পেছনে মোটরসাইকেলটি চলছিল। স্পিড ব্রেকারের কাছে হায়েস গাড়ি ধীর হলে মোটরসাইকেলও গতি কমায়। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান এসে প্রথমে মোটরসাইকেল ও পরে সামনে থাকা হায়েস গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ব্যক্তি পিকআপের চাকায় পিষ্ট হন এবং চালক ছিটকে পড়েন।'
দুর্ঘটনার পর আহত বিধান মল্লিককে সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে চমেক হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দুর্গাপদ মল্লিককে ১০টা ৫৫ মিনিটে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় বলে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে।
নিহতদের মৃত্যু সংবাদে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নিহতদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, দুর্গাপদ মল্লিকের দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং বিধান মল্লিকের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সন্তানরা এখনো শিক্ষার্থী।
নিহত বিধান মল্লিকের স্ত্রী অনিমেষ বলেন,`গ্রামের বাড়ি থেকে বিকেলেই দু’জনের আবার শহরে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন আর হলোনা।'
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।