হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা রুবেল হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

এরশাদুল হাবীব রুবেল। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা এরশাদুল হাবীব রুবেল হত্যা মামলার চার আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আরও চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জাহেদুল ইসলাম ওরফে ফরহাদ, আবু এরশাদ ওরফে জুয়েল, রুস্তম আলী ও আবদুল্ল্যা আল মামুন। আদালতের আদেশে আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককে গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।

অপর দিকে খালাস পাওয়া চার আসামি হলেন আজহারুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ ও মোহাম্মদ সৈয়দ।

আদালত সূত্র জানায়, রায়ের সময় জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এরশাদুল হাবীব রুবেল হত্যা ঘটনায় ২০০৬ সালে ১৭ অক্টোবর কুতুবদিয়া থানায় ১৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে পুলিশ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন আদালত। এই মামলায় মোট ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

আদালত রায়ে প্রসিকিউশন পক্ষের বরাতে বলেছেন, অত্র মামলার আসামি ও বাদীপক্ষের লোকজন পরস্পর প্রতিবেশী ও আত্মীয়। তাঁদের উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন দরে জায়গাজমি দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধের আক্রোশে একে অপরকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন যড়যন্ত্র ও একাধিক মামলা-মোকদ্দমা হয়।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে ১৫ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এরশাদুল হাবীব রুবেল। তিনি চট্টগ্রামে ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্রসংসদের সদস্য থাকার পাশাপাশি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

মামলাটির বিচারে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলার পর আসামিপক্ষের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁরা বিভিন্ন সময় মামলার কাজে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া বাদীপক্ষের লোকজনদের বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

২০১০ সালে কক্সবাজার জেলা আদালতে প্রথমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এক যুগের বেশি সময় ধরে কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ না হওয়ায় মামলার কোনো অগ্রগতি ছিল না। এর মধ্যে নিহত ছাত্রলীগ নেতার দুই ভাই-বোন আইনজীবী পেশায় নিযুক্ত হয়ে হত্যা মামলাটির হাল ধরেন।

মামলাটির বাদী হিসেবে নিহত ছাত্রলীগ নেতা এরশাদুল হাবীব রুবেলের মা মারা যাওয়ার পর বাদীর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হন নিহতের ছোট ভাই ব্যারিস্টার মো. হানিফ বিন কাশেম।

২০২২ সালে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে পরের বছর ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে আদালতে মামলাটি নথিভুক্ত হয়। এর পর থেকে চট্টগ্রাম আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলে আসছিল।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যা: ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল নিয়ে তর্কের জেরে হামলা, মা-মেয়েসহ আহত ৫

আবাসিক শিক্ষার্থীকে ছয় মাস ধরে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক

আনোয়ারায় পুলিশ সদস্যকে মারধর ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ, আতঙ্কে পরিবার

চিকিৎসার কথা বলে শহরে এনে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর: ৩ জাহাজ লুট, নিরাপত্তা উদ্বেগ

সেতুর অর্ধেক কাজেই মেয়াদ শেষ, দুর্ভোগ

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৫

আদালতের আদেশ অমান্য, চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে রুল জারি

বিড়ালের বাচ্চা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা: আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড