চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানার লেক সিটি হাউজিং মাঠে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই অর্ধমাসব্যাপী একটি মেলা আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ‘ঈদ আনন্দ মেলা’ নামে পরিচিত এ আয়োজনকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এতে যুবদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তবে তারা এটিকে মেলা বলতে নারাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন ১০ জুন পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। মাঠজুড়ে ৪০টিরও বেশি স্টল বসানো হয়েছে, যেখানে গৃহস্থালি পণ্য, প্রসাধনসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের জন্য নাগরদোলা, চরকি ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে।
মেলায় অংশ নেওয়া কয়েকজন স্টল মালিক অভিযোগ করেছেন, প্রতিটি স্টলের জন্য প্রায় ১০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দৈনিক ২০০ টাকা স্টল ভাড়া এবং বিদ্যুৎ বিলের নামে আরও ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত খরচের কারণে ব্যবসা পরিচালনায় তারা সমস্যার মুখে পড়ছেন বলেও জানান।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় কোনো মেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের আয়োজন অবৈধ বলে উল্লেখ করেন তারা।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, “অনুমতি ছাড়া কোথাও মেলা বসানোর সুযোগ নেই। আমার জানা মতে সেখানে কোনো অনুমোদিত মেলা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২১ মে ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব ইলিয়াস খানের নামে মেলা আয়োজনের অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখনো অনুমোদন মেলেনি। এর মধ্যেই ২৬ মে থেকে মাঠে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
তবে যুবদল নেতা ইলিয়াস খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো মেলার আবেদন করেননি। সেখানে কোনো মেলাও বসেনি, কিছু দোকানপাট বসেছে মাত্র।
স্থানীয়দের দাবি, ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিবের নেতৃত্বে এবং যুবদল নেতা মো. কামরুলের তত্ত্বাবধানে পুরো আয়োজন পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মেলায় আসার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণার অভিযোগ রয়েছে।
যুবদল নেতা মো. কামরুল দোকানপাট বসানোর বিষয়টি স্বীকার করলেও এটিকে মেলা বলতে নারাজ। তিনি বলেন, “এলাকাটি দর্শনার্থীদের বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মানুষের ভিড়ের কারণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দোকানগুলোকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আনা হয়েছে। দেখতে মেলার মতো হলেও এটি প্রকৃত মেলা নয়।”
তিনি আরও জানান, অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছিল, তবে এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকা কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডাস্থলে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। আলোকসজ্জায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া মেলা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাট্টলী সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার হুছাইন মুহাম্মদ বলেন, “মেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, খেলার মাঠে অনুমতি ছাড়া মেলা আয়োজন নিয়ে অতীতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের আয়োজনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।