পূবালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন পূবালী ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (ব্যবস্থাপক) সিরাজুল ইসলাম এবং আবু দাউদ চৌধুরী রিপন ও মো. শাহ আলম।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বুধবার (১৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
এই বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন জানান, সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই কারণে আদালতের বিচারক তাঁদের সাজা ও জরিমানা নিশ্চিত করেছেন রায়ের মাধ্যমে।
আসামিদের মধ্যে ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সিরাজুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ৫ বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরসহ মোট ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ৩৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি আবু দাউদ চৌধুরী (রিপন) ও মো. শাহ আলমকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেকটি মামলায় আদালত তিন আসামিকে একই ধরনের দণ্ড দিয়েছেন।
এতে প্রত্যেককে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৪০ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি ও আদালত থেকে জানা গেছে, পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের কক্সবাজার শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রাহকের হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ জমা না থাকা সত্ত্বেও নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারড্রাফট সুবিধা দেন। এর মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে ১০টি চেকের বিপরীতে প্রায় ৩৪ লাখ ১৪ হাজার ৪২২ টাকা এবং ১৯৯৯ সালে আরও চারটি চেকের মাধ্যমে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। আসামিরা এসব অর্থ অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এই ঘটনায় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক তিন আসামির বিরুদ্ধে উল্লিখিত রায় ঘোষণা করেছেন।