কুমিল্লার মুরাদনগরে চাঞ্চল্যকর হেলাল হত্যার রহস্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে থানা-পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন আদালতে ৬৪ দ্বারায় জবানবন্দিতে হত্যার রহস্য উন্মোচন করে দায়ভার স্বীকার করেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত আটককৃতরা হলেন, জয়নাল হোসেনের ছেলে রাসেল মিয়া (২৪), আলী আকবরের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (২৫), হিরন মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (২২), হারুন মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (২১) ও আবু তাহেরের ছেলে এরশাদ (২৯)। তবে ঘটনার মূল নায়ক কালাম মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (২২) এখনো পলাতক। তারা সবাই উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় ওসি সাদেকুর রহমান প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নিহত হেলাল ও আরিফ ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। সেই সুবাদে হেলাল প্রায়ই আরিফের বাড়িতে রাত্রি যাপন করত। আরিফের অজান্তে তাঁর মায়ের সঙ্গে হেলালের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রায় দু’মাস আগে হেলালকে তাঁর মায়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন আরিফ। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে শত্রুতে তৈরি হয়।
গত মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাতে হেলালসহ আরও ৫ জন বন্ধুকে নিয়ে নেশা করার উদ্দেশ্যে নবীপুর মেসার্স নিউ থ্রি স্টার ব্রিকস ফিল্ডে যায় আরিফ। নেশায় বেহুঁশ হওয়ার পর পকেটে থাকা খুর দিয়ে হেলালের গলায় আঘাত করে আরিফ। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হেলালের। এরপর সঙ্গে থাকা অন্যান্য বন্ধুদের সহযোগিতায় হেলালের লিঙ্গ কেটে মরদেহ ডোবায় ফেলে পালিয়ে যান তারা।
উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের নিউ থ্রি স্টার ব্রিকস ফিল্ডের পাশের ডোবা থেকে উপজেলার রহিমপুর গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে হেলাল উদ্দিনের (২১) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে পেশায় একজন সিএনজি চালক ছিলেন।