হোম > সারা দেশ > ব্রাহ্মণবাড়িয়া

পাওনা টাকা চাওয়ায় কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধর, চাঁদা পেয়ে মুক্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় দিদার হোসেন (১৪) নামের কিশোরের এক পা গাছে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। পরে স্বজনদের থেকে দাবি করা চাঁদার টাকা পেয়ে কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উপজেলার চরচারতলা গ্রামে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে এ ঘটনা ঘটে। 

এদিকে গতকাল রোববার রাতে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিষয়টি নজরে আসলে আজ পুলিশ ওই কিশোরের বাড়িতে যায়। 

স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একই গ্রামের দিদার হোসেন ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে দিদার। খায়ের মিয়া পেশায় জেলে। তাঁদের সংসারের জন্য পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিদার তাঁর বাবার সঙ্গে মেঘনা নদী থেকে মাছ ধরে। এই দম্পতির আরও দুই সন্তান রয়েছে। 

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে একই এলাকার চরচারতলা গ্রামের তোফাজ্জলের কাছে নৌকার কাজের পাওনা টাকা চাইতে গেলে দিদারের সঙ্গে তোফাজ্জলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে দুপুরে দিদার বাড়ি থেকে বের হলে একই গ্রামের জামিরের নেতৃত্বে ৫–৬ জন দিদারকে ধরে নিয়ে যায়। তাঁরা দিদারের এক পা একটি কড়ই গাছের ডালে দড়ি বেঁধে জামিরসহ কয়েকজন মিলে মোটা রশি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। 

দিদারের মা–বাবা আজকের পত্রিকাকে জানান, নির্যাতনের সময় মোবাইল ফোনে কল দিয়ে দিদারকে ছাড়াতে ২ লাখ টাকা নিয়ে যেতে বলেন জামির। না হয় ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেন। পরে দিদারের মা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, দিদারকে গাছে ঝুলিয়ে মারধর করছেন তাঁরা। 

দিদারের মা রহিমা বলেন, ‘তাদের হাত–পায়ে ধরে ছেলেকে নিচে নামিয়ে আনার অনুরোধ করি। পরে টাকা দিতে রাজি হলে ছেলে নামানো হয়। আমি সবার কাছে থেকে ধার দেনা করে করে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে আমার ছেলেকে তাঁদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। বাকি টাকা আমি পরে দিব বলে আসি।’ 

এই দম্পতি আরও জানান, এই ঘটনার কাউকে জানালে দিদারকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তাঁরা। পাশাপাশি তার দুই বোনকেও তুলে নিয়ে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। এর পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। 

দিদার হোসেন বলেন, ‘তোফাজ্জলের কাছে নৌকার কাজের পাওনা টাকা চাইতে গেলে তোফাজ্জলের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে দুপুরে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হলে জামির ও তাঁর সঙ্গে থাকা বাকিরা একটি কড়ই গাছের ডালে ডান পায়ে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে সবাই মিলে মোটা রশি দিয়ে আমাকে প্রায় দুই ঘণ্টা এলোপাতাড়ি মারতে থাকে।’ 

অভিযুক্ত জামিরের মা স্বীকার করলেন, ‘তার ছেলে কাজটি ভালো করেনি। ঘটনার পর থেকে বাড়ি আসে না।’ 

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাহিদ আহামেদ জানান, খবরটি পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিশোরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি: টেকনাফের গুলিবিদ্ধ শিশুটি লাইফ সাপোর্টে

ফেনী হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে রান্না করার ঘটনায় দুই নার্স বরখাস্ত

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস ঢুকল ফলের দোকানে

চট্টগ্রামে পোর্ট কলোনিতে মোটরসাইকেলচালকের ছুরিকাহত মরদেহ, পুলিশ বলছে হামলা অন্য এলাকায়

ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হতেই ছোঁ মেরে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় ফটিকছড়ির এক পরিবারের তিনজন নিহত

ফটিকছড়িতে গুলিতে নিহত ১

মিরসরাইয়ে পুলিশ পরিচয়ে পোলট্রি ফার্মে ঢুকে ডাকাতি, মোটরসাইকেলসহ মালপত্র লুট

শিক্ষককে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলেন চাকসুর শিবির নেতারা

প্রভাবশালী ব্যবসায়ী থেকে ঋণখেলাপি, ৫০ বছরের বন্ধুত্বে ফাটল