বাঁশ ও বেতের তৈরি সরঞ্জাম বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শাহজালাল। অতীতের তাঁর অভাব–অনটনের সংসার এখন চলছে স্বাচ্ছন্দ্যে।
উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের উত্তর মাহামুদাবাদ এলাকায় শাহজালালের বাড়ি। ছোট বেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর মাকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করতে হতো তাঁদের। অন্যর বাড়িতে কাজ শুরু করেন মা। আর তিনি শুরু করেন দিনমজুরির কাজ। কিন্তু এ দিয়ে সংসার চালানো ছিল কষ্টসাধ্য।
এর পর শাহজালাল ২০০৭ সালে স্থানীয় এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুকলাল হাট বাজারে বাঁশ ও বেতের তৈরি লাই, খাঁচা, টুকরি, কুলাসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে এ শিল্পের তৈরি জিনিসের ওপর মানুষের আগ্রহ কম দেখে তিনি কিছুটা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। তবে ফসল ও সবজির আবাদসহ নির্দিষ্ট মৌসুমে এ শিল্পের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কারণে তিনি অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যবসায় আরও বিনিয়োগ করেন। এতে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে এ ব্যবসায় তাঁর লাখ টাকার বেশি পুঁজি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শাহজালাল বলেন, ধান ও শীতকালীন সবজির মৌসুমে এসব পণ্যের প্রচুর চাহিদা থাকে। উপজেলার বড় দারোগারহাট ও মাহামুদাবাদ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার কারিগরদের থেকে সরাসরি পণ্য পাইকারি কিনে আনেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে দুদিন বসা শুকলালহাট বাজারে এগুলো বিক্রির জন্য তোলেন। চাহিদা ভেদে প্রতি জোড়া বড় লাই ২০০ টাকা, মাঝারি ও ছোট লাই ১৫০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া বাঁশের তৈরি প্রতি জোড়া খাঁচা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, প্লাস্টিকের খাঁচা প্রকার ভেদে ৫০০ থেকে ৩৫০ টাকা, টুকরি জোড়া ৩০০ টাকা, কুলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে, প্রতিটি পণ্য বিক্রিতে তাঁর অর্ধেকের বেশি লাভ থাকে।
শুকলালহাট বাজারে খাঁচা কিনতে আসা বাড়বকুণ্ডের ভায়েরখীল এলাকার বাসিন্দা রফিক উদ্দিন ছিদ্দিকীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতেও শাহজালাল ভূমিকা রাখছেন।