চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামের বাসিন্দা যমজ দুই ভাই। তাঁদের ইচ্ছা ছিল একসঙ্গে বিয়ে করবেন। পরিবারেরও ছিল এমনই চিন্তাভাবনা। দুজনের একজন দেশে এবং অন্যজন সৌদি আরবে থাকেন। সংসারে সচ্ছলতা আনতে একজন প্রবাসে যান। সবকিছু ঠিক ছিল। দেশে থাকা ভাইয়ের বিয়ের দিনক্ষণ পাকাপোক্ত হয়েছে। আর সৌদি আরবে থাকা ভাই দেশে এলে তাঁরও বিয়ে ঠিক হবে। এর জন্য মেয়ে দেখাদেখিও শেষ। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই প্রবাসের মাটিতে প্রাণ হারালেন এক ভাই। নিহত যুবকের নাম তৌহিদুল ইসলাম বাবু। দেশে অবস্থান করা ভাইয়ের নাম জাহেদ হোসেন বাবলু।
মাত্র সাত মাস আগে বাবা আবু তৈয়বকে হারিয়েছিলেন তাঁরা। এর মধ্যে ১ মে ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাবলুর ফুফু।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্মস্থলে মারা যান বাবু। কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ একটি দেয়াল তার ওপর ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান বাবু। ইতি ঘটে একটি জীবনের। একটি স্বপ্নের।
এই বিষয়ে নিহত ব্যক্তির যমজ ভাই জাহেদ হোসেন বাবলু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন আমার ভাই বাবু। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী আমাদের দুই ভাইয়ের বিয়ে একসঙ্গে হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ১৫ মে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিটও কেটে রেখেছিলেন বাবু। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। আমার ভাই ফিরছে কফিনবন্দী হয়ে।’
বাবলু বলেন, ‘আমরা দুই ভাই একসঙ্গে বিয়ে করব—এটাই ছিল আমাদের পরিবারের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। আমার ভাইটা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।’
এ বিষয়ে চরকানাই উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও একই গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দীন বলেন, এই ঘটনায় পুরো চরকানাই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় পরিবারটি এখন নিস্তব্ধ। যে ঘরে বিয়ের আনন্দের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল, সেই পরিবার আজ স্তব্ধ।