নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নে মোটরসাইকেল ও বিদ্যুতের খুঁটিবাহী ভ্যানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চেয়ারম্যানঘাট-সুবর্ণচর সড়কের আবদুল্লা মিয়ারহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সুন্দলপুর এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে রেদোয়ান হোসেন মিশু তরফদার (২৩) ও তাঁর ভগ্নিপতি নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের মান্নান নগর এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. শরীফ (২৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে পাঁচ দিনের ছুটিতে নোয়াখালীতে আসেন সেনাসদস্য (সৈনিক) রেদোয়ান। আজ সকালে চাটখিল থেকে সুবর্ণচরের জোবায়ের বাজারে সেনাবাহিনীর এসএলবি ক্যাম্পে যান তিনি। কাজ শেষ করে নিজের ভগ্নিপতি শরীফসহ মোটরসাইকেলযোগে চাটখিলের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। পথে তাঁদের মোটরসাইকেলটি আবদুল্লা মিয়ারহাট এলাকায় পৌঁছালে সামনে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটিবাহী ভ্যানের পেছনে থেকে ধাক্কা দেয় মোটরসাইকেলটি। এতে মোটরসাইকেলে থাকা রেদোয়ান ও শরীফ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেদোয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল আজিম জানান, দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্যের মাথায় আঘাত লেগেছিল। আহত ব্যক্তিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
নিহত সেনাসদস্য মিশুর বোন হিমু আক্তার বলেন, শুক্রবার তাঁর ভাই সিলেট থেকে নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপ সেনা ক্যাম্পে অফিসের কিছু কাগজপত্র দিতে আসেন। যাত্রাপথে রাত হয়ে যাওয়ায় রাতে নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্নান নগরে বোনের বাড়িতে অবস্থান করে আজ সকালে ভগ্নিপতি মো. শরীফকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে স্বর্ণদ্বীপের দিকে যান। তাঁদের মোটরসাইকেলটি সুবর্ণচর উপজেলার আবদুল্লা মিয়ারহাট এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দেলোয়ারের মাথায় আঘাত লেগে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এতে গুরুতর আহত হন শরীফ। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা স্থানান্তর করা হলে পথে কুমিল্লার পদুয়া বাজার এলাকায় বেলা সাড়ে ৩টার তিনি মারা যান।
চরজব্বার থানার পুলিশের পরিদর্শক (এসআই) দীপক চন্দ্র নাথ এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নিহত সৈনিক ও তাঁর ভগ্নিপতির মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।