পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে দেশে এসেছে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ। দুই দিন আগে তুরস্ক থেকে চট্টগ্রামে এসেছে ৪ হাজার ৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। আর টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে এসেছে ১ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন। জুলাই থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত এ নিয়ে দুই দেশ থেকে ২৪ হাজার ২৬৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। এভাবে সরবরাহ বাড়ায় বাজারেও পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি কমেছে ২০ টাকারও বেশি।
পাইকারি পর্যায়ে দাম কমে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়েও পেঁয়াজের দাম কমেছে। নগরীর চকবাজার, নিউমার্কেট ও কাজীর দেউড়ির খুচরা দোকানে মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের আড়তদার মো. ফারুক আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে ২০ টাকা কমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আড়তে প্রচুর পেঁয়াজ এসেছে, সামনে আরও দাম কমবে।
এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, মিয়ানমারের পেঁয়াজগুলো ৫০ শতাংশ খারাপ। তবে তুরস্ক ও অন্যান্য দেশের পেঁয়াজগুলো মোটামুটি ভালো পাচ্ছেন তাঁরা। খাতুনগঞ্জের বেশ কয়েকজন আড়তদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আড়তে এখন মিয়ানমার থেকে আসা নিম্নমানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়, আর ভালো মানের পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন তাঁরা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ মানভেদে ৪৫-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুরস্ক থেকে আসা পেঁয়াজ ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
টেকনাফ স্থলবন্দরের উপপরিচালক শৈবাল কান্তি নন্দী বলেন, জুলাই থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ২০ হাজার ২৬২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে। এর মধ্যে দুই দিন আগে এসেছে ১ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন।
মিয়ানমারের ৫০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট পাওয়ার বিষয়ে বৃষ্টির অজুহাত দেখান তিনি। সেই সঙ্গে বলেন, ‘চট্টগ্রামে খালাস করতে করতে বেশি সময় লাগায়ও পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে। তবে দ্রুত পেঁয়াজ খালাস করে সরবরাহের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’
পেঁয়াজ খালাসের আগে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, তুরস্ক থেকে ৫ অক্টোবর থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এরপর ১১, ১২, ১৮ ও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তুরস্ক থেকে ৪ হাজার ৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
টেকনাফ কাস্টমস স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুনির আহমেদ বলেন, এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে ২৫-৩০ গাড়ি পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসছে। এসব ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য জায়গায় চলে যাচ্ছে।