হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

কাস্টমস সার্ভার হ্যাক করে মদ-সিগারেট খালাসচেষ্টা: নেপালে পালানোর সময় হ্যাকার গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

সিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সার্ভার হ্যাক করে কয়েক কোটি টাকার বিদেশি মদ ও সিগারেট খালাসচেষ্টার আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত এক হ্যাকারকে নেপাল পালানোর সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম শেখ সেজান। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার সাতটি মামলা রয়েছে।

আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।

মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহযোগিতায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেখ সেজানকে গ্রেপ্তার করে। পরে শুক্রবার তাঁকে চট্টগ্রামে আনা হয়। সেজানের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায়।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালে চীন থেকে বন্ড সুবিধায় ফ্যাব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ এবং ৫০ লাখ শলাকা সিগারেট চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। পরে একটি দেশি-বিদেশি সংঘবদ্ধ চক্র জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন চট্টগ্রাম কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে’ অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার এসব পণ্য খালাসের চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ও ২ ডিসেম্বর বন্দর থানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দুটি মামলা করে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেখ সেজান স্বীকার করেছেন যে, তথ্যপ্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে তিনি কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম এবং চট্টগ্রাম বন্দরের পোর্টালের নিরাপত্তার দুর্বলতার সুযোগ নেন। তিনি কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডি অননুমোদিতভাবে ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন।

ফয়সাল আহম্মেদ আরও জানান, এর আগে একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আশরাফ হোসেন আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও শেখ সেজানের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তদন্তে নাম আসার পর তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হলেও তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, মামলাটিতে এর আগে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন, প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী বাকির হোসেন এবং সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য খোরশেদ আলম রিপন, মিজান, খায়েজ আহমেদ, রাজু ও আশরাফ হোসেন।

ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল অপারেটরের ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডি দিয়ে সার্ভারে প্রবেশ করা হয়। পরে একই আইডি ব্যবহার করে এলজি-জিআই নিবন্ধন ও ওপেনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল।

পুলিশ আরও জানায়, শেখ সেজান ও তাঁর সহযোগীরা অতীতে সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল নথি জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগেও একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

চট্টগ্রামে গ্যারেজে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার ৭

চট্টগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশায় বাসের ধাক্কা, চালক নিহত

মিরসরাইয়ের কামাল: ব্যবহার করেন ভারতীয় সিম, বিয়েও সেখানে, পেশা চোরাচালান

ত্রাণ বিতরণের মঞ্চ ভেঙে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী ও এমপিসহ নেতা-কর্মীরা

চট্টগ্রামে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় দগ্ধ ২ শ্রমিকের মৃত্যু

ফটিকছড়ি উত্তরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত

দেশে ফ্যাসিবাদী হাসিনার রাজনীতির সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

বাঁশখালির বন্যাদুর্গতদের পাশে পার্কভিউ হসপিটাল

বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১১ শ্রমিক, ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

ফটিকছড়িতে চলছে হরতাল, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন