চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘নগরের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গায় ইতিমধ্যে পানি নেমে গেছে। শুধু ২০ শতাংশ জায়গায় এখনো পানি জমে আছে। এসব এলাকা নিচু হওয়ায় সেখানে পানি এখনো নামতে পারেনি। এসব এলাকায় কেন পানি দ্রুত নামছে না, তা স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পানিবন্দী মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সময় চান্দগাঁও এলাকায় সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন। এ সময় মেয়রের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ছিলেন।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। গত সোমবার নগরের চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গাসহ একাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। গত মঙ্গলবারের ভারী বৃষ্টির পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত বুধবার রাত থেকে অনেক এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও গতকাল পর্যন্ত আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, হালিশহর কে-ব্লক, চান্দগাঁও মোহরা, শমসেরপাড়া, বলিরহাটসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা ছিল। আজ এখন পর্যন্ত নগরীতে বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ কয়েকটি এলাকায় পানি পুরোপুরি নামেনি।
এদিকে, ছয় দিনের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের বাইরে জেলার অধিকাংশ উপজেলাও প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে মেয়র ও সংসদ সদস্য চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, হাজিরপুল, বালুরতাল, অনন্যা আবাসিক এলাকা, শমসেরপাড়াসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন।
মেয়র আরও বলেন, গত পাঁচ থেকে ছয় দিনে (বৃহস্পতিবার পর্যন্ত) দেশের ইতিহাসে ১ হাজার ৮০ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত চট্টগ্রামে হয়েছে। এতে যেসব এলাকা নিচু, সেখানে পানি জমেছে। পানি নামতে পারেনি।
চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো জলাবদ্ধতা নিরসনে নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করছে। কোথাও পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, যেসব নিচু এলাকায় এখনো পানি জমে আছে, সেগুলো থেকেও খুব শিগগির পানি নেমে যাবে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পানিবন্দী মানুষের পাশে বর্তমান সরকার রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে একা রাখা হবে না।