হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ৬ হাজার পোলট্রি খামার বন্ধ, বেড়েছে মুরগির দাম 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ছোট বড় মিলে প্রায় ২০ হাজার পোলট্রি খামার রয়েছে। কিন্তু করোনায় পুঁজি হারিয়ে বর্তমানে ৬ হাজার খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি খামারিরা এখনো লোকসানে আছেন। তাই ঠিকমতো মুরগি পালন করতে পারছেন না। এর ফলে মুরগি বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিতিশীলতা। 

এ বিষয়ে খামারিরা বলেন, গরমে মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন না হওয়া, বাচ্চার দাম বৃদ্ধি, খাবার ও ওষুধের দাম বাড়ায় অধিকাংশ খামারি লোকসান গুনছেন। এখন প্রতি মুরগিতে ১৮ থেকে ২০ টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে মুরগি উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাড়ছে মুরগির দাম। গত এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজি প্রতি অন্তত ২৫ টাকা দাম বেড়েছে। 

খামারিরা আরও বলেন, একদিকে মুরগির উৎপাদন কম, অন্যদিকে লকডাউন না থাকায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়েছে। তাই চাহিদার সঙ্গে সমানতালে মুরগির দামও বাড়ছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকা দরে। যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১২০-১২৫ টাকা। 

নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় মুরগির খুচরা বিক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, এক মাস আগেও আমরা প্রতি কেজি মুরগি ১২০ টাকায় বিক্রি করেছি। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৪৫ টাকা। খামারিদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত মুরগি পাচ্ছি না। আগে যেখানে চার পাঁচজন খামারির থেকে মুরগি কিনতাম। সেখানে এখন মাত্র একজন খামারি আমাকে মুরগি সরবরাহ করছে। তাও ১০০ কেজি চাইলে ৬০-৭০ কেজি পাচ্ছি। মুরগি না পেলে আমরা বিক্রিও করতে পারছি না।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকার খামারি মহিউদ্দিন বলেন, গত কয়েক মাস গরমের কারণে মুরগির ওজন হ্রাস পাচ্ছে। খাবার দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে ওজন পাচ্ছি না। একই সঙ্গে মুরগির বাচ্চা, ওষুধ ও খাবারের দাম বেড়েছে। আবার এ সময়টাতে সামাজিক অনুষ্ঠান বেশি হওয়ায় মুরগির চাহিদা বাড়ছে। তাই মুরগির দাম সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
 
একই এলাকার আরেক খামারি দিদারুল আলম বলেন, করোনার সময় আমরা খামার বন্ধ করে দিয়েছি। এ খামার আবার মেরামত করে চালু করতে অন্তত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পুঁজি দরকার। এ টাকা কোথায় পাব? আর এখন মুরগি উৎপাদন করে বাকিরা লোকসান দিচ্ছে। পাইকারিতে প্রতি কেজি মুরগি এখন ১১৬ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দাম আরও ২০ টাকা বাড়তি হওয়া প্রয়োজন। এখন ধারদেনা করে খামার শুরু করেও লাভ নেই, লোকসান গুনতে হবে। তাই আপাতত খামার চালু করব না। 
 
বাংলাদেশ ব্রিডার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রাকিবুর রহমান টুটুল আজকের পত্রিকাকে বলেন, করোনায় সারা দেশের ৩০ শতাংশ খামারি পুঁজি হারিয়েছে। অন্তত ৭০ হাজার পোলট্রি ব্যবসায়ী করোনায় সংকটে রয়েছেন। লকডাউনে হোটেল, রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। বেকারি, মিষ্টি জাতীয় পণ্যে প্রচুর ডিম লাগে, তাও সে সময় বন্ধ ছিল। তাই লকডাউনে আমরা ডিমের দামও কমাতে বাধ্য হয়েছিলাম। সে সময় ডজন প্রতি অন্তত ৩০ টাকা কমে ডিম বিক্রি করা হয়েছে। 
 
রাকিবুর রহমান টুটুল আরও বলেন, এখন যেসব উদ্যোক্তা মুরগি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে তাঁদের আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। ওই সব উদ্যোক্তারা অন্য পেশায় চলে গেলে পুরো খাতের ওপর প্রভাব পড়বে। এখন বাজারে মুরগির ভালো দাম পাওয়া গেলে তাঁদের আবার ফিরিয়ে আনা যাবে। একই সঙ্গে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ মুরগি উৎপাদন কম হচ্ছে। তাই চাহিদা বাড়তি থাকলে বাজারে এর প্রভাব পড়বে। 

চট্টগ্রামে বিরোধপূর্ণ জমি: ১ বছর নিয়ে ২০ বছর ইজারা

ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ: বেপরোয়া পর্যটক সামলাতে হিমশিম অবস্থা কর্তৃপক্ষের

বউভাতে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কনের নানি নিহত

৯ জুলাই যোদ্ধা চাকরি পেলেন চট্টগ্রাম বন্দরে

১০ বছর পর দম্পতির কোলজুড়ে একসঙ্গে পাঁচ সন্তান

‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন’

টেকনাফে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়, মাথার খুলির এক পাশ খুলে রাখা হয়েছে

মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মিলনমেলা

চট্টগ্রামে নালা থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

সড়ক থেকে উদ্ধার সেই শিশু দাদির জিম্মায়, বাবা কারাগারে