কুমিল্লায় পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া এক যুবক মারা গেছেন। পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া যুবকের নাম শেখ জুয়েল (৩৫)। তিনি মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ইন্টারনেট ব্যবসায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার ইটভাটার পূর্ব পাশে জনৈক হেলালের বাড়ি থেকে ৭০টি ইয়াবাসহ জুয়েল ও তাঁর চার সহযোগীকে আটক করে থানায় আনা হয়। রাতে হাজতে জুয়েল অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জুয়েলের মৃত্যুর খবর এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন রাতে বাঙ্গরা বাজার থানার সামনে বিক্ষোভ এবং জুয়েলকে বিএনপির কর্মী বলে দাবি করে।
জুয়েলের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমি শুনেছি পুলিশ আমার স্বামীকে মারধর করেছে। আমার স্বামী সুস্থ ছিল, ভালো ছিল। তারা আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে।’
জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাই। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।’
এ বিষয়ে মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘আটক জুয়েলকে পুলিশ নির্যাতন করেনি। অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। আজ শুক্রবার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’