পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল থেকেই সৈকতে উপচে পড়া দর্শনার্থী দেখা যায়। তবে আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেই বেপরোয়া মোটরসাইকেল ও বিচ বাইকারদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পর্যটকেরা।
অভিযোগ রয়েছে, সৈকতে প্রবেশপথে নির্ধারিত পার্কিংয়ে মোটরসাইকেল না রেখে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কিছু ব্যক্তি সৈকতে মোটরসাইকেল নামাতে দিচ্ছেন। ফলে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বেপরোয়া গতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাইকাররা। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে নারী পর্যটকদের বিরক্ত করার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পর্যটকদের সঙ্গে মোটরসাইকেলচালকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার বিকেলে সৈকত ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও বিচ বাইকগুলো বেপরোয়া গতিতে সৈকতের বালুচরে ছুটে বেড়াচ্ছে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিভাবকেরা। অনেক শিশু ভয়ে অভিভাবকদের হাত ছেড়ে দূরে যেতে পারছে না। তা ছাড়া নারী পর্যটক দেখলেই বাইকের গতি বাড়িয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও করে তারা।
জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল ও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর একসঙ্গে দেখার সুযোগ হওয়ায় পর্যটকদের কাছে পারকি সমুদ্রসৈকত বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এ ছাড়া সময় বাঁচাতে পর্যটকেরা কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটা না গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন। ঈদের প্রথম দিন থেকে এখানে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অনেক পর্যটক পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন। সৈকতের ওপরে আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও পারকি বিচ ও ফুলতলী পার্কিংয়ে লোকজন টাকার বিনিময়ে এসব মোটরসাইকেল নামিয়ে ইচ্ছেমতো ছোটাছুটি করেন বাইকাররা। এ জন্য পর্যটকেরা ট্যুরিস্ট পুলিশের নজর না থাকা ও সৈকতে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের দায়ী করেছেন।
পটিয়া থেকে বেড়াতে আসা নারী পর্যটক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সৈকতে মোটরসাইকেলের ভয়ে বাচ্চারা একটু মুক্তভাবে দৌড়াদৌড়ি করতে পারছে না। বিরক্তিকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছি। এমন ঈদেও এদের কাছ থেকে রেহাই পাচ্ছে না পর্যটকেরা।’
রিফাতুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, জাহেদুল আলমসহ বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী জানান, মূল প্রবেশপথ দিয়ে তাঁরা প্রবেশ করেছেন সৈকতে। এর জন্য তাঁদের অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়েছে।
পারকি বিচ ও ফুলতলী পার্কিং ইজারাদার লিয়াকত আলী বলেন, ‘কোনো অবস্থায় গাড়ি সৈকতে নামানোর সুযোগ নেই মূল প্রবেশপথ দিয়ে। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ভিন্ন পথে সৈকতে গাড়ি নামাচ্ছেন।’
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এরপরও পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু লোক সৈকতে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢুকে পড়ে। পর্যটকেরা যেন নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হবে।’
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘সৈকতে মোটরসাইকেল প্রবেশ নিষিদ্ধ, মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’