কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা তোহা বাজারে সরকারিভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা হবে। সে কারণে ওই জায়গার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নতুন করে সরকারি শেডে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সেই বহুতল ভবনে দোকান পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শতাধিক ব্যবসায়ীর থেকে দোকান বরাদ্দের নামে কোটি টাকার টোকেন বাণিজ্য করছেন বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
টোকেনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন-লালমাই উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক , সার ডিলার হানিফ মজুমদার ও বাজারের ব্যবসায়ী নূর হোসেন। টোকেনে স্বাক্ষর করা অন্য দু’জন নিজেদের বাগমারা বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটি’র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করেছেন।
ওই বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও মফিজুল ইসলামসহ একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ‘শৃঙ্খলার সুবিধার্থে টোকেন দিচ্ছে ভালো কথা। কিন্তু আমাদের থেকে প্রতি টোকেনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন স্বাক্ষরদাতা কৃষক লীগের আহ্বায়ক হানিফ মজুমদার।’
অভিযোগের বিষয়ে কৃষক লীগের আহ্বায়ক বলেন, পুরোনো তোহা বাজারে প্রায় ১২০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬০ জন ব্যবসায়ী আমার কাছ থেকে টোকেন নিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবাই ১০ হাজার টাকা করে দেননি। কমবেশি করে দিয়েছেন। আমার কাছে টোকেন বাবদ ৩ লাখ টাকা জমা আছে।
বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলেন, মূল তোহা বাজারে ১৩০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯৮ জন টোকেন নিয়েছেন। টোকেনের টাকা উত্তোলন করেন বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি হানিফ মজুমদার।
সরকারি তোহা বাজারে ইজারাদারকে খাজনা দিয়ে ব্যবসা করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে অনেকের ব্যবসার মূলধন ১০ হাজার টাকার চেয়েও কম। তবুও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের থেকে টোকেনের জন্য কেন টাকা উত্তোলন করছেন?-প্রশ্ন করলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নতুন তোহা বাজারে কিছু উন্নয়নের কাজ করতে হবে। সে জন্য টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফোরকান এলাহী অনুপম আজকের পত্রিকাকে বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ব্যবসায়ীরা লিখিতভাবে আমার কাছে অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।