চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সশস্ত্র এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়েন র্যাব সদস্যরা। সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার ঘটনার পর ওই এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালায়।
প্রসঙ্গত, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী একে অপরের মধ্যে সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে আসছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ আরও বেড়ে যায়। এর জেরে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সবশেষ ওই এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হন। এর পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।
সোমবারের হামলার ঘটনা নিয়ে র্যাব-৭-এর একজন কর্মকর্তা জানান, জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে একজনকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন র্যাব সদস্যরা। পরে আসামিকে নিয়ে আসার পথে র্যাবের ওপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের ডিএডি মো. মোতালেব, ল্যান্স নায়েক ইমাম উদ্দিন, নায়েক আরিফ ও কনস্টেবল রিফাত আহত হন।
গুরুতর আহত মোতালেবকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলেও বাকিদের জিম্মি করে রাখে সন্ত্রাসীরা। পরে র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে তাঁদেরকেও উদ্ধার করে সিএমএইচে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সন্ধ্যায় আহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেবকে সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সেখান পরিস্থিতি নিয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, র্যাবের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে র্যাব ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এর আগেও একাধিকবার জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ ও পাহাড় কাটা বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে প্রশাসন। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সেখানে উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছিলেন।