চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নাম পরিবর্তন করে ‘চট্টগ্রাম শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখার কথা জানিয়েছেন চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ।
শতভাগ আবাসন, চাকসু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারসহ সাত দফা দাবিতে আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।
মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কখনোই পরিবহন বাস বা খাবারের কোনো সমস্যা হয় না। তাঁদের জন্য সব সময়ই সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, যদি শিক্ষকদের জন্যই সব সুবিধা বরাদ্দ থাকে, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কেন নয়? এই বিশ্ববিদ্যালয় কি কেবল শিক্ষকদের জন্য? যদি তা-ই হয়, তাহলে এর নাম পরিবর্তন করে সরাসরি ‘‘চট্টগ্রাম শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়’’ ঘোষণা করে দিন। এরপর আপনাদের গবেষণার বিষয় হোক—কীভাবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা যায়।’
পারভেজ আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের শেষ দিন, আপনারা সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে না পারলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব, ইনশা আল্লাহ।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মো. ইব্রাহিম রনি, শাখা শিবিরের অফিস সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ, অর্থ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রুহুল আমিন আবিরসহ অনেকে।
শিবিরঘোষিত সাত দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত ও অনাবাসিকদের জন্য ভাতা প্রদান, সেশনজট নিরসন ও শিক্ষার আধুনিকায়ন, নিরাপদ ও পর্যাপ্ত যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা, অবিলম্বে চাকসু নির্বাচন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিএসসি স্থাপন, সেন্ট্রাল অডিটরিয়াম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও হল সংস্কার এবং জুলাই বিপ্লব ও ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় নির্যাতনে জড়িত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার।
উল্লেখ্য, সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এসবের মধ্যে রয়েছে সংস্কার ক্যাম্পেইন, প্রতীকী সিট বণ্টন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি।