বগুড়ার আলোচিত তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার গণশুনানির ভিত্তিতে নির্ধারিত নামগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় অনুমোদন দিয়ে রেজল্যুশন আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামে দুটি ও তাঁর পৈতৃক বাড়ির নামে একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছিল—এমন অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে পরে সেগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সমন্বয় সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন নাম কার্যকর হবে।
ঘোষণা অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার নবগঠিত মীরবাড়ি ইউনিয়নের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘বেতগাড়ী ইউনিয়ন’। আর মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নাম বদলে ‘জগন্নাথপুর ইউনিয়ন’ এবং দিগন্ত ইউনিয়নের নাম বদলে ‘রহবল ইউনিয়ন’ রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, আজ জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় তিনটি ইউনিয়নের পরিবর্তিত নাম অনুমোদন করা হয়েছে। সেটি রেজল্যুশন আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর নতুন নামগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, গত ১৪ জুন জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এগুলোর নাম রাখা হয় মীরবাড়ি, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম।
এর মধ্যে মীরবাড়ি নামটি বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম। অন্যদিকে সীমান্ত ও দিগন্ত নাম দুটি তাঁর দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পরদিন বিষয়টি জাতীয় সংসদে স্পিকারের নজরে আনেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ ঘটনাকে ‘কাকতালীয়’ বলে সে সময় দাবি করেন। পরে বগুড়ার ইউনিয়নগুলোর নাম বদলানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।