বগুড়ার ধুনটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের চার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের মারপিট, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ধুনট উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি ও কাশিয়াহাটা গ্রামের গোলাম হোসেন মাস্টারের ছেলে কলেজ শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ডলার (৫০), ধুনট পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে চপল মাহমুদ (৪৫), ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ও রঘুনাথপুর গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে ফজলুল হক সুজন (৩৮) এবং মথুরাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও অলোয়া দক্ষিণ পাড়ার ইসমাইল হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৮)।
থানা-পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের গাড়ি বহরে হামলা করে ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৭ জুন ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে যুবলীগ নেতা চপল মাহমুদ ও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফজলুল হক সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তা ছাড়া ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর গোপালনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজু আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই বছর ৩০ নভেম্বর গভীর রাতে চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের ভুবনগাঁতী উত্তরপাড়া তিনমাথা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মশাল মিছিল বের করেন। ওই মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়। সেই মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম ডলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাশকতার বিভিন্ন মামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’