হোম > সারা দেশ > বগুড়া

রেলের জমি দখল করে ছাত্রদল নেতার রেস্তোরাঁ, থানায় এজাহার দিলেও নথিভুক্ত হয়নি

গনেশ দাস, বগুড়া 

রেলের জায়গা দখল করে হোটেল ব্যবসা চালাচ্ছেন ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হক। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ায় রেললাইন দখল করে রেস্তোরাঁ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ গেট-সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন-সংলগ্ন জমি ও পরিত্যক্ত রেললাইনের ওপর কংক্রিটের ঢালাই করে স্থাপনা গড়ে তোলায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থানায় এজাহার দাখিল করেছে দুই মাস আগে। তবে এখন পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মাহমুদুল হক কয়েক মাস ধরে কলেজের গেট-সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গা ও পরিত্যক্ত রেললাইনের ওপর কংক্রিটের ঢালাই করে স্থাপনা তৈরি করে রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে শিক্ষার্থীদের আড্ডা চলে। রেস্তোরাঁর পাশ দিয়ে রেললাইন চলে গেছে। অনেকে চা-পান করতে করতে অথবা মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে রেললাইনের ওপর চলে যাচ্ছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী রেলগেট নির্মাণ করা হলেও সেটি কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারছে না। বরং রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসে যাতায়াতের সময় রেললাইন পার হওয়াই তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। দোকানপাটের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় ট্রেনের আসা-যাওয়া বোঝাটা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মাহমুদুল হক রেলওয়ের জায়গা দখল করে রেস্তোরাঁ নির্মাণের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সতর্ক করার জন্য আমি সেখানে সাইনবোর্ড দিয়েছি।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, রেললাইনের দুপাশে এবং কিছু লাইনের ওপরেই কংক্রিট ঢালাই দিয়ে স্থায়ী কাঠামোর দোকান তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের নেতা ছাড়াও আরও অনেকে এসব দোকান বসিয়ে নিয়মিত ভাড়া আদায় করছেন। ফলে এটি শুধু দখলদারত্ব নয়, বরং একটি অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে।

রেলের জায়গা দখল করে হোটেল ব্যবসা চালাচ্ছেন ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হক। ছবি: আজকের পত্রিকা

গত জানুয়ারি মাসে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও অল্প সময়ের মধ্যে আবারও দোকান গড়ে উঠেছে।

বগুড়া রেলওয়ের ফিল্ড কানুনগো রাজীবুজ্জামান বলেন, ‘আমি নিজে এসব স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিতে গিয়ে হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছি। এ কারণে ১৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়া সদর থানায় ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হক ও মালগ্রামের জহুরুল হকের নামে এজাহার দাখিল করি। অজ্ঞাত কারণে এজাহার নথিভুক্ত করা হয়নি।’

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি, বিষয়টি আমার জানা নেই। রেলওয়ের অভিযোগটি থানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার সাজেদুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত উচ্ছেদ করা সম্ভব না। এ কারণে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে বলেছি নিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন।’

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘জায়গা রেলওয়ের। আমরা কী করে উচ্ছেদ করব? আর শিক্ষার্থীদের নিয়ে উচ্ছেদ করতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। আমি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর কলেজগেটের সামনের জায়গাগুলো কলেজের নামে বরাদ্দ দেবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা সেই জায়গায় ফুলের বাগান করব।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই দখল কার্যক্রম বারবার ফিরে আসছে।

বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু

বগুড়ায় কিশোর খুন, আরও দুজন ছুরিকাহত

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ায় ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল জব্দ

বগুড়ায় ৪ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ, কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি

পুকুরে পানি থাকে না বারো মাস, বানানো হয়েছে শানবাঁধানো ঘাট

বগুড়ায় মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

শাজাহানপুরে বাসের সঙ্গে ভটভটির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৬

কর্মচারীদের জিম্মি করে পাম্প থেকে তেল লুট