বগুড়া শহরে দিনদুপুরে ছুরি নিয়ে এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম শহর যুবদলের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মী। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলাও রয়েছে। তিনি এর আগে ফেনসিডিলসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে শহরের কৈপাড়া বকুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কৈপাড়া এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান শান্ত অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সামনে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা সরিয়ে ফেলতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন তাঁরা। কারণ, ওই সিসিটিভি ক্যামেরার কারণে তাঁদের মাদক কারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
শান্ত আরও বলেন, ‘শনিবার সকালে জাহিদুল ও তাঁর সহযোগী মনা ও বাবু আমার বাড়ির সামনে এসে আমাকে নিচে ডেকে নেন। জাহিদুল ছুরি নিয়ে আমার ওপর হামলা করেন। আমি প্রতিরোধের চেষ্টা করলে মনা আমার পায়ের ওপর উঠে দাঁড়িয়ে পা মচকে দেন, যাতে আমি দৌড়াতে বা আত্মরক্ষা করতে না পারি। পরে আমি মাটিতে বসে পড়লে তাঁরা এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।’
শান্ত দাবি করেন, গত ২৬ বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় বসবাস করছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অন্য এলাকা থেকে এসে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবার পরিচালনা করছেন। এর আগেও কয়েকবার তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এদিকে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে বলেছেন, মশিউর রহমান শান্ত নিজেই মাদক কারবারি। কিছুদিন আগে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ডিবি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছাড়া পান।
এ বিষয়ে বগুড়া ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, ‘চাকু হাতে মহড়া দেওয়ার ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামকে আটক করতে অভিযান চলছে। আর ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মশিউর রহমান শান্ত নামের কাউকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
বগুড়া শহর যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব মমি বলেন, ‘জাহিদুল ইসলাম আমাদের দলের কর্মী। তবে তার আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।’