বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থেকে ধুনট থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে বগুড়া ৫ (ধুনট-শেরপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আব্দুল হাই খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আব্দুল হাই খোকন ধুনট উপজেলা চিকাশি ইউনিয়নের সোনার গাঁ গ্রামের বাসিন্দা। আজ দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ বগুড়া-৫ (ধুনট-শেরপুর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন হাবিবর রহমান। ওই নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ১১ ডিসেম্বর প্রচারণার উদ্দেশ্যে শতাধিক মোটরসাইকেল ও ৪টি জিপ গাড়ি নিয়ে দুপুর ১২টার দিকে ধুনট উপজেলা শহরে হোটেল আল আরাফাতের সামনে আসেন। এ সময় খবর পেয়ে হাবিবর রহমানের নেতা কর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জিএম সিরাজের গাড়ির বহরে হামলা চালায়। হামলায় তাঁর দুটি জিপ, দুটি মাইক্রোবাসসহ ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলগুলোয় অগ্নিসংযোগ করে। হামলায় জিএম সিরাজসহ প্রায় ১০-১৫ নেতা কর্মী আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর রাতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহিন বাদী হয়ে আব্দুল হাই খোকনসহ আওয়ামী লীগের ৪৬ নেতা কর্মীকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় বগুড়া ৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়।
তবে আব্দুল হাই খোকন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ধুনট থানা হাজতে আটকাবস্থায় আব্দুল হাই খোকন বলেন, তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাঁর নামে মামলা করা হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্যর গাড়ির বহরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আব্দুল হাই খোকনসহ ৪৬ নামে মামলা ছিল। মামলার এজাহার নামীয় আসামি আব্দুল হাই খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।